পুকুরপাড়ে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা অভিযান আইনী প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গোপীনাথপুর পুকুর দখলমুক্ত করা হবে- মেয়র আলহাজ্ব জি, কে গউছ

হবিগঞ্জ শহরের গোপীনাথপুর পুকুরপাড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছে হবিগঞ্জ পৌরসভা। গতকাল সকালে মেয়র আলহাজ্ব জি, কে গউছ, পৌরকাউন্সিলরবৃন্দ ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে ওই পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়। পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডে পৌরসভার মালিকানাধীন গোপীনাথপুর পুকুর দখলমুক্তকরনের দাবীতে সাম্প্রতিক উদ্ভুত পরিস্থিতিতে পৌরসভার আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের ঘোষনার ৩ দিন পর এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হলো। গত ১৪ নভেম্বর গোপীনাথপুর পুকুর সম্পর্কিত উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে পৌরপরিষদের বিশেষ সভা আহবান করেন মেয়র আলহাজ্ব জি, কে গউছ। ওই সভায় পৌরসভার সংস্থাপন ও অর্থ বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি পৌরকাউন্সিলর মোঃ আলমগীরকে এ ব্যাপারে আইনী প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পৌরসভার পক্ষ হতে পুকুর দখলমুক্ত করণের উদ্যোগ গ্রহনের দায়িত্ব দেয়া হয়। সাথে সাথে ১৭ তারিখ পরিচ্ছন্নতা অভিযানেরও সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী শুক্রবার সকালে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরুর সময় গোপীনাথপুর পুকুর পাড়ে এক সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তব্য রাখেন মেয়র। তিনি বলেন গোপীনাথপুর পুকুর নিয়ে সচেতন মহলের উদ্বেগের সাথে পৌরসভার সম্পূর্নভাবে একাত্মতা রয়েছে। সচেতন মহলের দাবীকে আমলে নিয়ে এই পুকুর পুনরুদ্ধারে আইনী ব্যবস্থা নিবে পৌরসভা। তিনি নায়েবের পুকুর, পুরানমুন্সেফী পুকুর সংরক্ষনসহ সকল ইতিবাচক উদ্যোগে অতীতে পৌরসভা যেভাবে জনগনকে পাশে পেয়েছে ভবিষ্যতেও তেমনি পৌরবাসীর সহযোগিতা পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সংক্ষিপ্ত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা হবিগঞ্জ শাখার সহসভাপতি এডভোকেট মনসুর উদ্দিন আহমেদ ইকবাল, পৌরকাউন্সিলর মোহাম্মদ জুনায়েদ মিয়া, বাপা হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল প্রমুখ। বক্তারা ভূমি দস্যুদের কবল হতে সরকারী জমি উদ্ধার করতে এবং পুকুর ও জলাশয়ের পরিবেশ সুন্দর রাখতে পৌরকর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান। তারা গোপীনাথপুর পুকুর রক্ষায় পৌরসভার তাৎক্ষনিক উদ্যেগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও এসব উদ্যোগ অব্যহত রাখার জন্য দাবী জানান। আরো উপস্থিত ছিলেন পৌরকাউন্সিলর মোঃ জাহির উদ্দিন, দীলিপ দাস, গৌতম কুমার রায়, মোঃ আলমগীর, নায়েবের পুকুর রক্ষা কামিটর সমন্বয়কারী আব্দুর রকিব রনি, পরিবেশকর্মী বিজন বিহারী ভৌমিকসহ অন্যান্যারা। উল্লেখ্য পৌরসভার মালিকানাধীন গোপীনাথপুর পুকুরের আয়াতন এস এ রেকর্ড অনুযায়ী ৫০ শতক জমির উপর ছিল। কিন্তু ক্রমান্বয়ে এ পুকুরের উল্লেখযোগ্য অংশ অবৈধ দখলদারদের নিয়ন্ত্রনে চলে যায়। এ নিয়ে এলাকার সচেতন মহল ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা পুকুরের জমি পুনরুদ্ধারের দাবী জানিয়ে আসছে।

Share on Facebook